সেই বেয়াদপ মেয়ে টা

সেই ছেলেবেলা থেকেই বড্ড বেয়াদপ মেয়ে আমি।বাপ মা বলেছে তো আমি বেয়াদপ।বড্ড তাড়াতাড়ি  প্রেমে পড়ে যেতাম, তাই।ওই পাশের বাড়ির ছেলে টা চিঠি লিখত। সে নাকি বড্ড ভালবাসত আমায়। ভালবাসত  সে আর ধরা পড়লাম আমি আর মার টাও বেশ খেলাম বাবার হাথে। দরজার আড়কাঠের মার। খুব লেগেছিল বটে, তবে বুঝে উঠতে পারিনি কেন মার খাচ্ছি। অত্ত বুদ্ধি থাকলে কি আর মার খেতাম। মা জানতে ছেয়েছিল: কি ভাল লেগেছে ওই ছেলের। আরে ধুর ভাললাগা, বুঝি নাকি প্রেম তখন। আমি তার হাতের লেখার প্রেমে পড়েছিলাম। ছবির মত ছিল তার হাতের লেখা।

বাবা বলত আমার হাতের লেখা নাকি ভাল না। কিন্তু আমার বন্ধুরা তো  আমার খাতাই জেরক্স  করত। আর তাখন তো  এটাও ভাবিনি যে হাতে কলম ই ধরব না বছরে একবার। যদিওবা  ধরি তাও ওই ইংরেজি এক খানা সই। যাকগে তা। কারো হাতের লেখা ভাল লাগার জন্যও মার টা খেয়েছি তাহলে। প্রেম আমার বেশ।

ক্লাস  নাইন, পড়তে জেতে হত ব্যাচ এ। শেখানে ছেলে মেয়ে এক সাথে পড়ত, তা বন্ধু হবে না? হল। গার্লস  স্কুলে পড়া মেয়ে আমি, দেখব না যে ছেলে বন্ধু কেমন হয়? দেখতে গিয়েই আবার বকা খাওয়া বাড়িতে। এটা বুঝল না যে মানুষ যদি কথা না বলে, তাহলে সেটা  অসামাজিক।  যাক, খেলাম বকা কিন্তু প্রেমে পড়লাম ছেলেদের নিষ্পাপ বন্ধুত্তে। ছেলেরা বেশি তফাত বোঝে না তবে বন্ধুত্ত টা বোঝে বটে। দুক্ষ হয়নি বকা খেয়ে, কিন্তু ঘরের শান্তি বজায় রাখতে বন্ধুত্ত জলাঞ্জলি। আজ ও নেই বেশি বন্ধু। বড্ড মানিয়ে গুছিয়ে ছলতে হয় যেকটা আছে তাদের সাথে। নাহলে ভয় তারাও দেখায় ছেড়ে জাবার।

স্কুল ছেড়ে কলেজ, আবার প্রেম। এটা ছিল ব্যাকারণ প্রেম। সে ছেলে ছিল অসাধারন বাংলা আর সংস্কৃত ব্যাকারণ এ। আর সাথে আবার সেই ভাল হাতের লেখা। আমি তো পাগলি।  শিখে নিলাম ব্যাকারণ আর বাড়িতে গেল প্রেমের খবর। ঊফ। খেলাম গালি আর থাপ্পড়। বড্ড রাগ হয় আমার এখন সেগুলো ভেবে। তখন তো এই ভাবে বলতেই পারতাম। জানি সবাই মিথ্যুক ই বলত, তবুও বলতে তো পারতাম একবার। বোঝাতে পারিনি।

তার পর এক খানা সামাজিক  প্রেম করলাম যাকে  নাকি সমাজ সম্মান করবে। বাড়ির লোকেরা খুব খুশি, মেয়ে প্রফেসর  এর ছেলে পেয়েছে, আহা কি বড় কাজ করেছে। আর পড়াশনা টা ভাল করে হল না। সামাজিক  প্রেম বলে কথা,সবার মনের মেয়ে আর হবু বউমা হয়ে কেটে গেল প্রায় তিন বছর।  অনেক হল ভাল মেয়ে হয়ে থাকা। বেয়াদপ টা মনের ভিতর থেকে বলছিল এটা তো জেল খানা, সারা জীবন  পারবি এত্ত ভাল হয়ে থাকতে?

আর হল না ভাল হয়ে থাকা। তার মা বলেছিল আমার নাকি চাকরি টা করা হবে না, চাকরি করলে সংসার টা ভাল হয় না। তবে তিনি নিজে ছিলেন চাকুরীজীবী তাও আবার শিক্ষিকা, আহা!  ছেলে বলে ভাল ইউনিভারসিটি  তে নাকি পড়ার যোগ্যতা  নেই আমার। সে যথাসাধ্য চেষ্টা  টা করেছিল বটে। ছেলের বাবা আর ছেলে মিলে বেশ বুদ্ধি  দিয়ে এক বছর বেশি ক্লাস এ রাখতে পেরে ছিল, তাহলে নাকি পরের বার বেশি নাম্বার টা পাব। হ্যা, পেয়েছিলাম ও, তবে মাত্র ১৮ নাম্বার। হাসি পায় এখন আমার শুভ চিন্তক দের কথা ভেবে। তারা মোটামুটি সব ব্যাবস্থা করেছিল আমার জীবনের তালা আর চাবির।

তবে কি জানত,  উপর ওয়ালা ওই বেয়াদপ টাই চেয়েছিল আর সেটাই ছিল শাপে বর। মেয়ে সামাজিকতা ভুলে চল্লো নিজের মতো। প্রেম হল ন্যায়শাস্ত্র। মন দিয়ে শোনা ক্লাস গুলো আর কলকাতা ইউনিভারসিটির আলিপুর ক্যাম্পাস লাইব্রেরী । ওগুলো দিল সব কিছু পালটে। করে দিল সব থেকে আলাদা। সব থেকে শক্ত। আর ভয় করেনি বেয়াদপ হতে। মেয়েটা বুঝেছে, আশলে কেউই ভাবেনি তার মনের কথা।

নিজেই শুনি নিজের কথা। একদম যেমন বোঝাতে চাই, ঠিক তেমনি বোঝে আমার মন, আর ঠিক তেমনি কাজ। ওটা শিখতে সময় লেগেছে, কিন্তু অসম্ভব ছিল না। ভয় করেছিল প্রথম বার, তার পর সব জল। ঘরের গন্ডি পার করে শহর, শহর থেকে বড় শহর আর তার পর বিদেশ।  কেন জান? উদাহরণ বানানোর ইচ্ছে নিজেকে। উদাহরণ হতে চাই আরো কিছু বেয়াদপ মেয়ের। 

বেয়াদপি বড্ড ভাল লাগে আমার।

3 thoughts on “সেই বেয়াদপ মেয়ে টা

Leave a reply to World News.com Cancel reply